By signing in you confirm you are 18 or older, or have your parent’s or guardian’s consent.

CTET 8 Feb 2026 Paper 1 Bengali, Question 126

Topic: Reading comprehension

Passage

নির্দেশ ঃ নিম্নে প্রদত্ত গদ্যাংশটি পড়ুন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলির (121-128 নং প্রশ্ন) সঠিক উত্তর নির্বাচন করুন।
একটা জিনিষ এখানে পথে ঘাটে চোখে পড়ে। রাস্তায় লোকের ভিড় আছে কিন্তু গোলমাল একেবারে নেই। এরা যেন চেঁচাতে জানে না, লোকে বলে জাপানের ছেলেরা সুদ্ধ কাঁদে না। আমি এপর্যন্ত একটি ছেলেকেও কাঁদতে দেখি নি। পথে মোটরে করে যাবার সময়ে মাঝে মাঝে যেখানে ঠেলাগাড়ি প্রভৃতি বাঁধা এসে পড়ে, সেখানে মোটরের চালক শান্তভাবে অপেক্ষা করে; গাল দেয় না, হাঁকা হাঁকি করে না। পথের মধ্যে হঠাৎ একটা বাইসিক্‌ল মোটরের উপর এসে পড়বার উপক্রম করলে, আমাদের দেশের চালক এ অবস্থায় বাইসিক্‌ল আরোহীকে অনাবশ্যক গাল না দিয়ে থাকতে পারত না। এ লোকটা ভ্রুক্ষেপ মাত্র করলে না। এখানকার বাঙালিদের কাছে শুনতে পেলুম যে, রাস্তায় দুই বাইসিক্‌লে, কিংবা গাড়ির সঙ্গে বাইসিক্‌লের ঠোকাঠুকি হয়ে যখন রক্তপাত হয়ে যায় তখনও উভয় পক্ষ চেঁচামেচি গালমন্দ না করে গায়ের ধুলো ঝেড়ে চলে যায়।
আমার কাছে মনে হয়, এইটেই জাপানের শক্তির মূল কারণ। জাপানী বাজে চেঁচামেচি ঝগড়াঝাঁটি করে নিজের বলক্ষয় করে না। প্রাণশক্তির বাজে খরচ নেই বলে প্রয়োজনের সময় টানাটানি পড়ে না। শরীর মনের এই শান্তি ও সহিষ্ণুতা ওদের স্বজাতীয় সাধনার একটা অঙ্গ। শোকে দুঃখে আঘাতে উত্তেজনায়, ওরা নিজেকে সংযত করতে জানে। . . . . . .
. . . . . এই যে নিজের প্রকাশকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করতে থাকা, এ ওদের কবিতাতেও দেখা যায়। তিন লাইনের কাব্য জগতে আর কোথাও নেই। এই তিন লাইনই ওদের কবি, পাঠক উভয়ের পক্ষেই যথেষ্ট। সেইজন্যেই এখানে এসে অবধি, রাস্তায় কেউ গান গাচ্ছে, এ আমি শুনিনি। এদের হৃদয় ঝরণার জলের মতো শব্দ করে না, সরোবরের জলের মতো স্তব্ধ। . . . . . . এদের দুটো বিখ্যাত পুরনো কবিতার নমুনা দেখলে আমার কথাটা স্পষ্ট হবে ঃ
পুরনো পুকুর,
ব্যাঙের লাফ,
জলের শব্দ।
ব্যস ! আর দরকার নেই। জাপানি পাঠকের মনটা চোখে ভরা। পুরনো পুকুর মানুষের পরিত্যক্ত, নিস্তব্ধ, অন্ধকার। তার মধ্যে একটা ব্যাঙ লাফিয়ে পড়তেই শব্দটা শোনা গেল। শোনা গেল - এতে বোঝা যাবে পুকুরটা কী রকম স্তব্ধ। এই পুরনো পুকুরের ছবিটা কীভাবে মনের মধ্যে এঁকে নিতে হবে সেইটুকু কেবল কবি ইশারা করে দিলে; তার বেশি একেবারে অনাবশ্যক।
আর একটা কবিতা ঃ
পচা ডাল,
একটা কাক,
শরৎকাল। . . . . .
শীতের দেশে শরৎকালটা হচ্ছে গাছের পাতা ঝরে যাবার, ফুল পড়ে যাবার, কুয়াশায় আকাশ ম্লান হওয়ার কাল - এই কালটা মৃত্যুর ভাব মনে আনে। পচা ডালে কালো কাক বসে আছে, এইটুকুতেই পাঠক শরৎকালের সমস্ত রিক্ততা ও ম্লানতার ছবি মনের সামনে দেখতে পায়।

Q126

প্রদত্ত গদ্যাংশটির মূল বৈশিষ্ট্য কী ?

  1. (1) জাপানীদের মানসিকতার বিশ্লেষণমূলক বর্ণনাCorrect answer
  2. (2) জাপানী কবিতার পাঠকদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা
  3. (3) জাপানের যানবাহনের নিয়মকানুনের বর্ণনা
  4. (4) জাপানী কবিতার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা

Solution.

CBSE answer: (1)

উত্তর: (1) জাপানীদের মানসিকতার বিশ্লেষণমূলক বর্ণনা

  1. গদ্যাংশে প্রথমে পথেঘাটে জাপানিদের শান্ত আচরণ, তারপর তার কারণ (প্রাণশক্তির অপচয় না করা), শেষে সেই সংযম তাদের তিন লাইনের কবিতাতেও দেখানো হয়েছে।
  2. সব অংশ এক সূত্রে বাঁধা: জাপানিদের মন কেমন এবং কেন।
  3. (2) ও (4) কেবল শেষ অংশের কথা; (3) ভুল, যানবাহনের নিয়ম নয়, চালকদের আচরণের কথা আছে।

সতর্কতা: দুটি কবিতা দেখে (4) বাছা সহজ, কিন্তু কবিতা এখানে মানসিকতারই উদাহরণ।