অঘোর সরকারের মৃত্যুর পর ঐ বাড়িতে কুসুমকুমারীসহ মোট কতজন সদস্য ছিল?
- (1) আট
- (2) সাত
- (3) ছয়
- (4) পাঁচ
নির্দেশ : নিম্নে প্রদত্ত গদ্যাংশটি পড়ুন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলির (91 থেকে 99 নং প্রশ্ন) সর্বাপেক্ষা সঠিক উত্তর নির্বাচন করুন :
বাগবাজার-শ্যামবাজার-কুমারটুলি-আহিরীটোলা তো দূরের কথা, সারা উত্তর কলকাতার মানুষ অঘোর সরকারের নাম শুনলেই বলবে, উনি যেমন ভাল মানুষ ছিলেন, সেইরকমই ভাল উকিল ছিলেন। দূর-দূরান্তরের মক্কেলরা শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে পৌঁছে ওঁর বাড়ির হদিস জিজ্ঞেস করলেই জবাব পেতেন, বলরাম মন্দিরের গলিতেই ওঁর বাড়ি। বাড়ির দরজায় ইংরেজি-বাংলায় ওঁর নাম লেখা আছে। যাঁরা রাজবল্লভপাড়া দিয়ে ঢুকতেন, তাঁরা বিশাল দত্তবাড়ির গোরাবাবুকে জিজ্ঞেস করলেই উনি বলতেন, এই তো কোণার বাড়িটা।
অঘোর সরকার এখন আর বেঁচে নেই। বছর দশেক আগেই উনি মারা গিয়েছেন। তবে ওঁর স্ত্রী পঁচাশি বছরের কুসুমকুমারী দেবী বেঁচে আছেন। ওঁদের ছোট মেয়ে পারুল থাকে ভবানীপুরে। অন্য দু’জন বাইরে। বড় ছেলে নগেন সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের অফিসার। তিনি কর্মজীবনের শুরু থেকেই দিল্লীতে। তবে প্রত্যেক বছর কলকাতায় আসেন। এখানে থাকেন শুধু ছোট ছেলে নৃপেন।
এই তিনতলা বাড়িতে এখন শুধু কুসুমকুমারী দেবী ছাড়া নৃপেনবাবু তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকেন। আর আছে তিনজন কাজের লোক। রাঁধুনী মনোরমা এ বাড়িতে তিরিশ-বত্রিশ বছর আছে। যে লক্ষ্মীর মা বৃদ্ধা কুসুমকুমারীকে দেখাশুনা করে, সে চৌত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর আছে। তৃতীয়জন হারাধন আছে বছর দশেক।
হারাধনের বাবা ক্ষেত্র মাত্র ষোল বছর বয়সে উকিলবাবুর কাজে লাগে কিন্তু এমন বোকা ছিল যে উঠতে-বসতে বকুনি খেত। সেই ক্ষেত্র কালে কালে অঘোর সরকারের দক্ষিণ হস্ত হয়ে যায়। কথায় কথায় সে মুহুরি বা টাইপবাবুর ভুল ধরতো, আঃ! কী করছেন? এটা পঞ্চাশ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে হবে। আলিপুর কোর্টের কত উকিল ওকে বলতেন, ক্ষেত্র, তুমি স্যারকে একটু বুঝিয়ে এই মামলাটা নিতে রাজী করাও। উনি সাহায্য না করলে আমরা নির্ঘাৎ হেরে যাব। ক্ষেত্র দেশে গেলে অঘোর সরকার চোখে অন্ধকার দেখতেন।
এই উকিলবাবুর কাজ করতে করতেই ক্ষেত্র গ্রামের বাড়িতে পাকা ঘরদোর বানিয়েছে, বিয়ে করেছে, তিনটে মেয়ের বিয়ে দিয়েছে, ছেলেটাকে আট ক্লাস পর্যন্ত পড়িয়েছে। তারপর দুটো চোখই বড্ড বেশি খারাপ হওয়ায় কাজকর্ম করাই মুশকিল হলো। অঘোর সরকারও বার্ধক্যের জন্য কাজকর্ম বেশ কমিয়ে দেওয়ায় ক্ষেত্র ছেলেকে উকিলবাবুর কাছে রেখে দেশে চলে গেল। মাস তিনেক পরই বৃদ্ধ প্রবীণ উকিল হৃদরোগে হঠাৎ মারা গেলেন। হারাধনকে নৃপেনবাবু এখানেই রেখে দিলেন।
নৃপেনবাবু ব্যাঙ্কের ম্যানেজার। নিউ আলিপুর ব্রাঞ্চে বেশ ক’বছর কাটাবার পর বদলি হয়েছেন গড়িয়াহাট ব্রাঞ্চে। লকারের একটা চাবি ওঁর কাছে থাকে। অন্য চাবিটি থাকে অ্যাকাউন্টেন্টের কাছে। এঁরা দু’জনে না গেলে ব্যাঙ্কের কাজকর্মই শুরু হতে পারে না। দু’জনকেই পৌঁছতে হয় পৌনে দশটার মধ্যে। তাই তো সাড়ে আটটার মধ্যেই খেয়েদেয়ে নৃপেনবাবুকে বেরুতে হয়। ওঁর স্ত্রী মাধুরী বেহালার একটা স্কুলের শিক্ষয়িত্রী। ন’টা বাজতে বাজতেই উনিও বেরিয়ে যান। দু’জনেই ফেরেন সন্ধ্যের আগে-পরে।
ওঁদের দুটি ছেলেমেয়ে। মহুয়া বড়, মৃণাল ছোট। মহুয়া সামনের বছরই হায়ার সেকেন্ডারী দেবে। স্কুল আর কোচিং নিয়েই যে সকাল থেকে রাত ন’টা-সাড়ে ন’টা পর্যন্ত ব্যস্ত। এই পরিবারের একমাত্র দুঃখের কারণ মৃণাল। সে বোবা। এবং কালা। ডেফ্ অ্যান্ড ডাম্ব স্কুলে যায় কিন্তু লেখাপড়ায় বিশেষ ভাল না। তবে খুব ভাল ছবি আঁকতে পারে। যখনই সময় পায়, তখনই ছবি আঁকে। বছর দুয়েক আগে আকাদেমীতে যে মূক ও বধিরদের ছবির প্রদর্শনী হলো, তাতে যোগদান করে মৃণাল শুধু রাজ্যপালের বিশেষ পদক পায়নি, ওর তিনটে ছবিই তাজ বেঙ্গল হোটেল পনের হাজার টাকায় কিনে নিয়েছে।
অঘোর সরকারের মৃত্যুর পর ঐ বাড়িতে কুসুমকুমারীসহ মোট কতজন সদস্য ছিল?
CBSE answer: (1)
উত্তর: (1) আট
সতর্কতা: শুধু পরিবারের লোক ধরলে উত্তর হয় পাঁচ (4); প্রশ্নের 'মোট' শব্দটি সবাইকে গুনতে বলছে।