‘তদনুযায়ী’ কোন্ পদ?
- (1) বিশেষ্য
- (2) অব্যয়
- (3) বিশেষণ
- (4) সর্বনাম
নির্দেশ : নিম্নে প্রদত্ত গদ্যাংশটি পড়ুন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলির (129 থেকে 135 নং প্রশ্ন) সঠিক উত্তর নির্বাচন করুন :
পশ্চিমবঙ্গের লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন ধারার প্রশাখাগত বিভাজন করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক দেখিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন অঞ্চলে ‘নাটক’ ধারাটির কোন কোন প্রশাখা বিদ্যমান। এই বিভাজন অনুযায়ী উত্তর এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় প্রচলিত রয়েছে বনবিবির পালা, পুরুলিয়ায় রয়েছে নাটুয়া, মেদিনীপুর এবং বর্ধমানে রয়েছে পুতুল নাচ, দিনাজপুরে রয়েছে খন, মালদায় ডোমনি এবং মুর্শিদাবাদ-মালদা-বীরভূম মিলিয়ে রয়েছে আলকাপ-পঞ্চরস।
মূলত মুর্শিদাবাদ জেলায় হলেও মালদা ও বীরভূমের কিছু অংশেও ‘আলকাপ’ বা ‘পঞ্চরস’ নামের এই লোকনাট্যশৈলী প্রচলিত। এই প্রাচীন লোকনাট্যের উৎপত্তির সময় বঙ্গভঙ্গ ও পরবর্তী রাজ্য বিভাজন হয়নি, তাই ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি থাকা বর্তমান বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের পূর্ণিয়া জেলাসহ ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলাতেও এর প্রচলন রয়েছে। মূলত মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকসংগীত হিসাবে পরিচিত এই নাট্যশৈলী পালাগানের একটি শাখা। বছর পঞ্চাশ আগেও এই আলকাপ-পঞ্চরস নাট্য অভিনয়ের সমান মর্যাদা পেত পূর্বোক্ত অঞ্চলগুলিতে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বলিষ্ঠ লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের গল্প, উপন্যাসে আলকাপের প্রভূত উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি স্বয়ং আলকাপ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে পালাগানে অংশগ্রহণ করেছেন। সেই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা কাহিনী রূপ পেয়েছে তাঁর ‘মায়ামৃদঙ্গ’ উপন্যাসে। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন, এই লোকনাট্যের কলাকুশলীরা কতটা যত্ন ও আগ্রহ নিয়ে অভিনয়টাকে নিজেদের প্যাশন করে তুলছেন; জীবনের অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও। সাধারণ নাট্যাভিনয়ের সঙ্গে আলকাপের অনেক পার্থক্য রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল—আলকাপের কোনো লিখিত স্ক্রিপ্ট থাকে না; কলাকুশলী, অর্থাৎ যাঁরা অভিনয় করবেন, তাঁরা প্রথমে সকলে একসঙ্গে বসে নিয়ে কাহিনীটি শুনে নেন। পরে সেটি নিজের মনে মনেই জারিত করে মঞ্চে উঠে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিবেশন করেন। আপাতভাবে মনে হতে পারে, বিষয়টির মধ্যে পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে। কারণ পূর্বলিখিত স্ক্রিপ্ট ও তদনুযায়ী রিহার্সাল ছাড়া অভিনয়ের পারফেকশনে পৌঁছতে পারে না ইত্যাদি। কিন্তু অন্য দিক থেকে দেখলে দেখা যায়, এই তথাকথিত স্ক্রিপ্টবিহীন নাট্য আঙ্গিকে কলাকুশলীরা পরস্পরের সঙ্গে মুখস্থ সংলাপ অভ্যাসের মাধ্যমে অভিনয় করেন না, বরং পরস্পরের ভাবনাবিশ্বের নিয়মিত খবর রাখতে হয় তাঁদের; যাতে করে মঞ্চে দর্শক-শ্রোতাদের সামনে অভিনয়ের সাবলীলতা অক্ষুণ্ণ থাকে। একজনের সংলাপ অন্যজনকে মনোযোগ সহকারে শুনে ও বুঝে নাটকের বিষয় ও প্রবাহ অনুযায়ী সংলাপ তৎক্ষণাৎ সৃজন করতে হয়। তাই কাজটিকে কোনমতেই অপেশাদার বলা যাবে না; উপরন্তু কাজটির মধ্যে গূঢ় অনুশীলন রয়েছে বলেই আমরা মনে করি। আরেকটি ব্যাপার, এই পূর্বলিখিত স্ক্রিপ্ট না থাকার কারণে চরিত্রগুলি নির্দিষ্ট হয় না; ফলত অকস্মাৎ কোনো অভিনেতা/অভিনেত্রী অনুপস্থিত বা অসুস্থ হলে অন্যরা অসুবিধায় পড়েন না; অভিনয় চালিয়ে যেতেও বিশেষ কোনো বাধা আসে না।
আলকাপের আসরসজ্জা উনিশ শতকের পালাগানের মতোই, অর্থাৎ মঞ্চ থাকে মাঝখানে। চতুর্দিকে দর্শক-শ্রোতারা ঘিরে বসেন। সাধারণত শীতের সময় বাগানের মধ্যে আলকাপের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এছাড়া ছট পূজার পরে বা ছট উপলক্ষে মেলা আয়োজিত হলে আলকাপ-পঞ্চরসের আসর বসে। পূজা প্যান্ডেলের পাশেই অভিনীত হয়। আলকাপে এখনো দেখা যায় আসরবন্দনার ঐতিহ্য। অভিনয়ের শুরুতে একই গান দ্বারা সমস্ত দেবদেবীর আরাধনা করা হয়। প্রণাম জানিয়ে প্রার্থনা করা হয় ‘কণ্ঠে এসে বসার’ জন্য। মঞ্চের একদিকে ঢোল, করতাল, বাঁশি, হারমোনিয়াম, খঞ্জনিসহ বাদ্যযন্ত্রীরা বসে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বাজনাতেও আধুনিকীকরণ হয়েছে।
‘তদনুযায়ী’ কোন্ পদ?
CBSE answer: (3)
উত্তর: (3) বিশেষণ
সতর্কতা: শুধু 'অনুযায়ী' অনুসর্গ হিসেবে অব্যয়; কিন্তু এখানে 'তদনুযায়ী' বিশেষ্যের আগে বসে গুণ বোঝাচ্ছে।